• ঢাকা
  • রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ এএম


বিশ্বের ১৭৫ দেশে সৌদি আরবের ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২০ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৪ এএম

জাতিসংঘের ‘ফাইন্যান্সিয়াল ট্র্যাকিং সার্ভিস’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা প্রদানে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং আরব বিশ্বের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে সৌদি আরব।১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিক দিবসে সৌদি আরব তার দীর্ঘদিনের মানবিক সেবার যাত্রাকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বের ১৭৫টি দেশে ৮ হাজার ৯৯৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সংকটকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এসব অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের এই ব্যাপক মানবিক সহায়তা দেশটিকে বিশ্বের শীর্ষ দানকারী দেশগুলোর কাতারে ধরে রেখেছে। এতে প্রতীয়মান হয়, দেশটির মানবিক কার্যক্রম কোনো সাময়িক উদ্যোগ নয়; বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধের অংশ, যার সুফল বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে পৌঁছেছে। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের অব্যাহত সমর্থন ও নির্দেশনার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক মানবিক অঙ্গনে সৌদি আরবের এই অবস্থান তৈরি হয়েছে।তথ্যমতে, ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী দাতাদের মধ্যেও সৌদি আরব শীর্ষে রয়েছে। দেশটিতে দেওয়া মোট সহায়তার ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশই এসেছে সৌদি আরব থেকে। সংকট নিরসন এবং দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সাফল্যকে।এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কাজ করছে ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ (কেএসরিলিফ)। বাদশাহ সালমানের নির্দেশনায় ২০১৫ সালের ১৩ মে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বজুড়ে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অভাবী মানুষের সহায়তায় এটি সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান মানবিক প্রতিষ্ঠান।প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেএসরিলিফ ১১৩টি দেশে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ে ৪ হাজার ৪২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই কোটি কোটি প্রান্তিক মানুষ উপকৃত হয়েছে।সৌদি সহায়তার অন্যতম বড় সুবিধাভোগী দেশ ইয়েমেন। সেখানে কেএসরিলিফ ৪ দশমিক ৭৮৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে ১ হাজার ২১৯টি মানবিক ও ত্রাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।গাজায় বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের মাধ্যমে প্রতিদিন ২৪ হাজার গরম খাবার সরবরাহ করছে কেএসরিলিফ। পাশাপাশি শিক্ষাগত ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিমান ও সমুদ্রপথে বিশেষ ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। ৮৪টি বিমান ও ৮টি জাহাজে করে ৭ হাজার ৭৫০ টনের বেশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।এ ছাড়া সিরিয়ায় কেএসরিলিফ ৫৮৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে ৫২৩টি প্রকল্প, পাকিস্তানে ২২৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে ৩৫৩টি প্রকল্প, সুদানে ১৯২ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে ২৭৯টি প্রকল্প এবং লেবাননে ৯২ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ে ৭৩টি প্রকল্প সম্পন্ন করেছে। এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল প্রয়োজনীয় জরুরি সেবা নিশ্চিত করা।সংকটপূর্ণ এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ—সৌদি আরবের মানবিক কার্যক্রমে মানুষের কল্যাণ ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির দাবি, এই দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবিক সেবায় তাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।

সূত্র: সৌদি গেজেট

/বিএসএস