ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০০ জনের বেশি। গত ১৫ আগস্ট আঘাত হানা ভূমিকম্পটির পর একের পর এক পরাঘাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহরের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্রের কাছে। ভূমিকম্পটি ছিল অগভীর, এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। এ কারণে কম্পনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব তুলনামূলক বেশি হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্গম কিছু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূমিকম্পের কারণে অনেক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রায় ১ হাজার ৬০০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসব পরাঘাতের কারণে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকেই বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।
ভূমিকম্পে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৯ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে চলে গেছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া উদ্ধার ও ত্রাণকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কয়েকটি এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রঢেউ দেখা গেছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনেক বেশি। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে বিমানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/এএসএফ