• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম


১১ দিন সাগরে ভেসে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডু’বি, প্রা’ণ গেল ৯ বাংলাদেশির

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১:৩০ পিএম

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে একটি নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নয়জনই বাংলাদেশি। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার পর তীব্র গরম, প্রচণ্ড সূর্যের তাপ, খাবার ও পানির সংকটে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন মিশরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক বাংলাদেশি নাগরিকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বেঁচে যাওয়া ওই বাংলাদেশির নাম আবদুল করিম। তিনি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে বাংলাদেশ দূতাবাস।

আবদুল করিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন মোট ৪২ জন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক ছিলেন।

ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের পর নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। একই সঙ্গে জ্বালানিও শেষ হয়ে যায়। নৌকাটি একটি স্পিডবোট ইঞ্জিনের মাধ্যমে চলছিল। তবে এতে কোনো উপযুক্ত নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। ফলে সাগরের মধ্যে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে।

যাত্রার আগে তাদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু বাস্তবে তাদের প্রায় ১১ দিন সাগরে ভেসে থাকতে হয়। পরে গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়।

আবদুল করিমের তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ এবং খাবার ও পানির সংকটে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় নয়জন বাংলাদেশি ও একজন সুদানিসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ সময় সাগরে থাকার কারণে মৃতদেহগুলোতে পচন ধরে যায়। একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন বলে জানিয়েছেন আবদুল করিম।

ঘটনাটি জানার পর বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। দূতাবাস জানিয়েছে, মিশরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিকেরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

/এসএন