• ঢাকা
  • বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম


৫৮২ টনের বিশাল ম্যাগনেট দিয়ে ‘কৃত্রিম সূর্য’ বানাচ্ছে চীন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ৬:০৪ পিএম

‘কৃত্রিম সূর্য’ নামে পরিচিত পারমাণবিক ফিউশন প্রকল্পে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে চীন। প্রকল্পটির জন্য রেকর্ড ৫৮২ টন ওজনের একটি অতিপরিবাহী বা সুপারকন্ডাক্টিং চৌম্বক তৈরি ও এর পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউশন শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের হেফেইয়ের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স এই বিশাল চৌম্বকটি তৈরি করেছে। কোনো ফিউশন রিয়্যাক্টরের জন্য এখন পর্যন্ত তৈরি ম্যাগনেটগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। ‘ডি’ আকৃতির এই কয়েলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ মিটার এবং প্রস্থ ১২ মিটার।

চীনের বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক নামের রিয়্যাক্টরে এই ম্যাগনেট ব্যবহার করা হবে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে যেভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়, সেই প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করেই ‘কৃত্রিম সূর্য’ নামে পরিচিত এই রিয়্যাক্টরটি তৈরি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রিয়্যাক্টরটির ভেতরে প্লাজমাকে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হবে। এই তাপমাত্রা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার চেয়েও অনেক গুণ বেশি। এত উচ্চ তাপমাত্রা কোনো প্রচলিত পদার্থের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। তাই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে রিয়্যাক্টরের ভেতরে প্লাজমাকে ভাসমান অবস্থায় রাখা হবে।

এই কাজের জন্য রিয়্যাক্টরটিকে ঘিরে মোট ১৬টি এমন কয়েল স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে অতিউচ্চ তাপমাত্রার প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

ফর্বসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীন ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ‘বেস্ট’ রিয়্যাক্টরের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এরপর ২০৩০ সালের দিকে ফিউশনভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বর্জ্য ছাড়াই বিপুল পরিমাণ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সৌর প্যানেল, ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রযুক্তিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পর চীন এখন ফিউশন শক্তির মতো আরও উন্নত প্রযুক্তিতেও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার এবং ভবিষ্যতের শিল্পকারখানাগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফিউশন শক্তি নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তবে বাণিজ্যিকভাবে ফিউশন শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যায়ে পৌঁছাতে এখনো অনেক সময় প্রয়োজন। এর মধ্যেও চীনের তৈরি ৫৮২ টনের এই বিশাল সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটকে ফিউশন শক্তি বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

/এসএন