মরক্কো থেকে সাঁতরে এবং ফোলানো টিউবসহ বিভিন্ন ধরনের ভাসমান উপকরণ ব্যবহার করে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউতায় গণহারে প্রবেশের চেষ্টা করছেন হাজার হাজার অভিবাসী। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই অভিবাসী ঢলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
সিউতার স্বায়ত্তশাসিত সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা ইতোমধ্যে সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি এই সংকট সামাল দিতে স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিউতা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাসকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল সাগর পেরিয়ে অনেকে সাঁতরে কিংবা রবারের টিউবে ভেসে সিউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। আবার অনেককে দলবদ্ধভাবে সীমান্তের বেড়ার প্রধান ফটক ভেঙে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতেও দেখা গেছে।
হুয়ান হেসুস ভিভাস জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্র থেকে অন্তত ৬০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার তুলনায় বহুগুণ বেশি মানুষে পূর্ণ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের সেই সংকটের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় আট হাজার অভিবাসী সিউতায় প্রবেশ করায় স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
এদিকে, সিউতায় কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে দেড় হাজারের বেশি তরুণ মরক্কান সিউতায় পৌঁছেছেন, যার মধ্যে শুধু বৃহস্পতিবারই শত শত মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।
অন্যদিকে, স্পেনের কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, শুধু বৃহস্পতিবারেই দুই থেকে তিন হাজার অভিবাসী সীমান্ত পার হয়েছেন। তবে স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী গার্দিয়া সিভিল এ সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এই আকস্মিক অভিবাসী ঢলের পেছনে আইনি জটিলতা একটি বড় কারণ। চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, সিউতা বা মেলিয়ার জলসীমায় আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।
মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রগুলো আদালতের এই রায়কে কাজে লাগিয়ে তরুণদের সীমান্ত পার হতে উৎসাহিত করছে। তবে মরক্কো সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুই ছিটমহল সিউতা ও মেলিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। কঠোর নজরদারি ও সীমান্ত অবকাঠামো জোরদার করা হলেও ইউরোপে প্রবেশের তুলনামূলক সহজ পথ হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে অভিবাসীদের এই দুই সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
/এসএন