• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম


ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় বন্দি, ৬০ লাখের পরও গুলি করে হত্যা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৮ পিএম

ইতালিতে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে বন্দি করে রাখে মানবপাচারকারীরা। তাদের দাবি অনুযায়ী ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করেও শেষ রক্ষা হয়নি মাদারীপুরের রাজৈরের যুবক সোহাগ মুন্সীর। আরও ২৭ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরে তাঁর মরদেহ গুম করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) সোহাগের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে সোহাগ মুন্সী বাংলাদেশে রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। ইতালি গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় স্থানীয় মানবপাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন তিনি।

চুক্তি অনুযায়ী দালালদের হাতে ২২ লাখ টাকা তুলে দিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ি ছাড়েন সোহাগ। প্রথমে তাঁকে সৌদি আরবে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে লিবিয়ার ত্রিপলিতে নিয়ে বন্দি করে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক ধাপে আরও ৩৮ লাখ টাকা আদায় করে দালাল চক্রটি।

একপর্যায়ে সোহাগকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে আরও ২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু তাঁকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে গত ২৩ জুলাই আবারও ২৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ জুলাই সকাল ৮টার মধ্যে দাবিকৃত ২৭ লাখ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মানবপাচারকারী মাফিয়ারা সোহাগকে গুলি করে হত্যা করে। পরে তাঁর মরদেহ গুম করা হয়। বুধবার (২৯ জুলাই) তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়।

শুধু সোহাগ মুন্সী নন, এখনো লিবিয়ায় ওই মানবপাচারকারী মাফিয়াদের হাতে আরও ১১ জন যুবক জিম্মি রয়েছেন বলে জানা গেছে। মানবপাচারকারী দালাল ও মাফিয়াদের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি নিহত সোহাগের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী।

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মামলার মূল হোতাদের অধিকাংশই দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। আর যারা দেশে রয়েছেন, তাঁরা প্রতিমুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করছেন। এ কারণে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।