ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিল সম্প্রতি ঘোষণা দেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সব পানি পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে। এই ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।
ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও প্রবাহিত হতে দিতে চান না।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কোনো দেশ তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
মুসাদিক মালিক আরও বলেন, পাকিস্তানের পানির অধিকার খর্ব করা হলে এর চড়া মূল্য দিতে হবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে।
আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী উজানের দেশ ভাটির দেশের পানিপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে না। অথচ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি নির্দিষ্ট পানিবণ্টন চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে।
তিনি জানান, বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার দেশগুলোর পানির অধিকার এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে পাকিস্তান।
একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং কোনো দেশ একতরফাভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।
তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’।
অন্যদিকে, ভারত এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ভূখণ্ডে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসী অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসের দৃশ্যমান প্রমাণ দিতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
/এসএন