• ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫২ এএম


শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে, ১২ জেলায় হামের বিস্তার

The Pulse BD online news desk
আপডেট টাইম: ৩০ মার্চ ২০২৬ ৩:০০ পিএম

দেশে টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১২ জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে সাত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এক বছরের কম বয়সী শিশুরা।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশে প্রায় দুই কোটি এমআর (মিজেলস-রুবেলা) টিকা মজুদ থাকলেও জনবল, প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক ও অর্থসংকটের কারণে তা শিশুদের মধ্যে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস ধরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।

এর ফলে বহু শিশু নির্ধারিত সময়ের দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করতে পারেনি, যা হামের বিস্তারের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে হামের প্রকোপ বেশি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, ভোলা ও পটুয়াখালীর রোগীরাও রাজধানীর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছর প্রায় ৫০০ শিশু হাম নিয়ে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ জন মারা গেছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসে ১০৬ জন ভর্তি হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একই সময়ে ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ছেদ পড়াই এই প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ। অনেক শিশু নিয়মিত টিকা না পাওয়ায় তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার সরবরাহ সংকট, মাঠপর্যায়ে জনবল ঘাটতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ঘনবসতি ও অপুষ্টিও সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক শিশুই তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।