• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম


মাত্র ৭ মিনিটে ক্যানসারের চিকিৎসা, ভারতে এলো নতুন ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ মে ২০২৬ ৩:২৬ পিএম

ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে ভারত। দেশটিতে প্রথমবারের মতো এমন একটি ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন বাজারে এসেছে, যা মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগ করা সম্ভব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন পদ্ধতি ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও সহজ ও দ্রুততর করবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধ বাজারজাত করেছে।

বর্তমানে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি সাধারণত শিরায় ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এতে রোগীদের হাসপাতালে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয়। তবে নতুন এই ইনজেকশন সরাসরি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা যাবে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে মাত্র সাত মিনিটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির ফলে রোগীদের ভোগান্তি অনেক কমবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী ও দূরবর্তী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ এ ব্যবস্থায় বেশি উপকৃত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই চিকিৎসা মূলত নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে। এটি ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ধরন।

নতুন ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি-এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। প্রোটিনটি ব্লক হয়ে গেলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর মাত্রা বেশি থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এই থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই চিকিৎসার উপযুক্ত হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, কিন্তু ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

তবে এই আধুনিক চিকিৎসার খরচও বেশ বেশি। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়। ফলে পুরো চিকিৎসার ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চিকিৎসা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি চিকিৎসাটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প (সিজিএইচএস)-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সরকারি সহায়তা ও কম ব্যয়ের বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি হয়ে উঠেছে।

/এসএন