• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম


‘আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব’, অসুস্থতার ভ’য়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন তানিয়া বৃষ্টি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ নভেম্বর ২০২৬ ১২:২২ পিএম

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক অসুস্থতা, দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়া এবং আবারও শুটিংয়ে ফেরার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। তিনি জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল। প্রায় ১০ মাস পর স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম করা এবং হাসি-আনন্দে সময় কাটানোর মতো দৈনন্দিন কাজে ফিরতে পেরেছেন তিনি।

অস্ত্রোপচারের পর মাথার ডান পাশের জটিলতার কারণে বাঁ দিকে কাত হয়ে শুতে পারতেন না তানিয়া। এ সময় তীব্র শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং নিয়মিত বমির সমস্যাও ছিল। তবে রেডিওথেরাপির কঠিন ধাপ পার করার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন এই অভিনেত্রী।

দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নাটকের মধ্য দিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের বাস্তব প্রেক্ষাপটে নির্মিত নাটকটিতে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া। গল্পে বাবার মৃত্যুর পর চাচার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি।

তানিয়া বৃষ্টির ভাষ্য, টানা ১০ মাস কাজের বাইরে থাকায় শুটিংয়ের পরিবেশকে খুব বেশি মিস করতেন তিনি। সহকর্মীদের নিজের পরিবারের সদস্যদের মতো মনে করেন বলে শুটিং ফ্লোর তাঁর কাছে মানসিক প্রশান্তির বড় একটি জায়গা। কাজে ফেরার প্রথম দিন পরিচালক, ক্যামেরাম্যানসহ প্রযোজনা দলের প্রত্যেক সদস্য তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত যত্ন ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন।

তবে এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন তিনি। এ কারণে চিকিৎসকদের কঠোর পরামর্শ কিছুটা উপেক্ষা করেই অনুরোধ করে শুটিংয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কেমোথেরাপির চিকিৎসা চলমান থাকায় শুটিং করতে গিয়ে শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁকে কাজের অনুমতি দিতে চাননি। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘরে বসে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন তানিয়া। পরে অনেক অনুরোধ করে একটি নাটকে অভিনয়ের অনুমতি নেন তিনি।

এখনো তাঁর দুই মাসের কেমোথেরাপি বাকি রয়েছে। এই চিকিৎসার কোর্স শেষ হলে এমআরআই (MRI) ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের টিউমারের সর্বশেষ অবস্থা পুনরায় পরীক্ষা করবেন চিকিৎসকেরা।

তানিয়ার অসুস্থতার শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই সময় একটি নাটকের দৃশ্যধারণ চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় তাঁর। টানা চার দিন মাথাব্যথা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু পঞ্চম দিনে তীব্র বমি শুরু হলে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন পরীক্ষার প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে।

প্রথমদিকে সাধারণ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের একজন অনকোলজিস্ট যখন তাঁকে জানান, তিনি আর সর্বোচ্চ সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচতে পারেন, তখন মানসিকভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খান তানিয়া।

ঢাকায় প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে তখন বিদায় নেওয়ার মতো করেই কথা বলেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁকে লাইফ সাপোর্টেও রাখতে হয়।

জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর চারপাশের পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তানিয়া। তবে সেই কঠিন সময়ে মা ও বোনের উপস্থিতি তাঁকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছে। বাবা না থাকায় অসুস্থতার পুরো সময় মায়ের রাত জেগে সেবা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা তাঁর বেঁচে থাকার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

এ ছাড়া সহকর্মী মোশাররফ করিম, নিলয় এবং প্রযোজক আলী বশীরসহ নাট্যাঙ্গনের অনেকেই নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন।

অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর মৃত্যুর গুজব পেছনে ফেলে এখন জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তানিয়া বৃষ্টি। ২০১২ সালে শুধু ভালোবাসার জায়গা থেকেই অভিনয়জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। এবারও সেই একই আগ্রহ ও উদ্দীপনা নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার নতুন করে সাজাতে চান।

ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে তানিয়া বলেন, রোগের নাম শুনেই মনোবল হারানো উচিত নয়। তাঁর মতে, এই লড়াইয়ে দৃঢ় মানসিক শক্তি, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, চিকিৎসকের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

/এসএন