গ্রাফিতির নিচে লেখা একটি বাক্য থেকে ছাত্র মুছে গুপ্ত লিখে দেন ছাত্র দলের নেতা-কর্মীরা।
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে প্রথম দফার সংঘর্ষের পর বিকেলেও আবার মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের একটি দেয়ালে লেখা ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’ শীর্ষক গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল কর্মী সেখানে গিয়ে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন জানান, সকালে সংঘর্ষের পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় দুপুর ১২টার পর কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেল ৪টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ সময় উভয় পক্ষের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও শুরুতে তাদের ভূমিকা অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।