বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সরকারি টিফিনের রুটির মধ্যে ধারালো ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি জানানো হলেও তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেননি। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং একই সঙ্গে শিক্ষা কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ দেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আলমতাজ সরকারি বরাদ্দের টিফিনের রুটি খাওয়ার সময় সেটি ছিঁড়ে ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পায়। রুটি খাওয়ার আগেই ব্লেডটি দেখতে পাওয়ায় সে কোনো শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়নি। পরে বিষয়টি শ্রেণি শিক্ষক শারমিন জাহানকে জানানো হয়।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা সায়ফুন নাহার জানান, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে অবহিত করা হয়েছিল।
এদিকে, রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান বলেন, কোকাকোলা ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে স্কুলগুলোতে রুটি সরবরাহ করা হয়। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রুটি উৎপাদন হয় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো ধাতব বস্তু মিশে গেলে তা মিক্সিং পর্যায়েই গুঁড়া হয়ে যাওয়ার কথা। তাই রুটির ভেতরে আস্ত একটি ব্লেড পাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মেটাল ডিটেকশন বিভাগের কর্মকর্তারাই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন বলে তিনি জানান।
ইউএনও মো. ইব্রাহীম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ব্লেড পাওয়া রুটিটি জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
/এএসএফ