গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাড় করতে নিজের ১৩ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে বিক্রির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। শিশুটিকে উদ্ধারের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন।
পুলিশ সুপার জানান, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া থেকে ১৩ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়। মদনেরপাড়ার মোর্শেদা খাতুনের সহযোগিতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তার বাবা হামিদুল ইসলাম।
এ ঘটনায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকা থেকে হামিদুল ইসলাম, মজিদ সরকার, মোর্শেদা ও জেসমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শিশুটির মা রুমানা আক্তার জানান, প্রায় দুই মাস আগে গাইবান্ধা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার নানার বাড়ি থেকে দুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যান তার বাবা হামিদুল ইসলাম।
শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর হামিদুল মোবাইল ফোনে রুমানাকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তিনি ওই টাকা দিতে পারেননি। এরপর থেকে তিনি তার মেয়েকে আর ফিরে পাননি।
রুমানা আরও জানান, পরে হামিদুল মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। ফলে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন।
পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে পুলিশ।
গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। আসামিরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় তাদের গ্রেপ্তারে কিছুটা বেগ পেতে হলেও পুলিশের দলটি চৌকসভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এবং শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করে।
তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
/এসএন