• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম


রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের রেকর্ড আসনে জয়!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪১ পিএম

৫টি শিরোনাম

১. রাশিয়ার নির্বাচনে রেকর্ড জয় পুতিনের দলের, ডুমায় পেল ৩৫৫ আসন
২. রুশ পার্লামেন্টে আরও শক্তিশালী ইউনাইটেড রাশিয়া, ৪৫০ আসনের ৩৫৫টিই তাদের
৩. রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনের দলের রেকর্ড আসন, সংবিধান সংশোধনেরও সক্ষমতা
৪. ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ায় নির্বাচন, রেকর্ড আসনে জয় ইউনাইটেড রাশিয়ার
৫. ডুমায় পুতিনের দলের বড় জয়, বিরোধীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন

রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়া রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয় পেয়েছে। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের ডুমায় দলটি ৩৫৫টি আসন পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পার্লামেন্টে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বেড়েছে।

সোমবার রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা ফল ঘোষণা করেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি পেয়েছিল ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। নতুন ফল দলটির আগের সর্বোচ্চ আসনের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া ডুমায় ৩৪৩টি আসন পেয়েছিল। এবার ৩৫৫টি আসন পাওয়ায় দলটি সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার মতো সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখল।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। তবে নির্বাচনী পরিবেশে বিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরোধী ইয়াবলোকোসহ বিরোধী প্রার্থীদের বড় একটি অংশ নির্বাচনে কার্যকরভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

ক্রেমলিন অবশ্য নির্বাচনের ফলকে রুশ জনগণের ঐক্য ও সরকারের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও নির্বাচনের আগে ভোটকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ চলার সময় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান এলা পামফিলোভা বলেন, এসব পরিস্থিতির মধ্যেও নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে।

নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়ার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি। দলটি ৪০টি আসন পেয়েছে। এলডিপিআর পেয়েছে ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি পেয়েছে ২০টি আসন।

ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমালোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস রাশিয়ার নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ক্রেমলিন ভিন্নমত দমন করেছে, যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ সীমিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকারও দেওয়া হয়নি।

এদিকে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও আঞ্চলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চেচনিয়ায় দীর্ঘদিনের নেতা রমজান কাদিরভ ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।

রাশিয়ার রাজনৈতিক বিরোধীদের অনেকেই বর্তমানে কারাগারে, নির্বাসনে কিংবা রাজনীতির বাইরে রয়েছেন। দেশটির অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনি ২০২৪ সালে আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারাগারে মারা যান।

এ নির্বাচনের ফল পুতিনের নেতৃত্বাধীন সরকারের পার্লামেন্টীয় নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করেছে। তবে নির্বাচনটি এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরোধী ও ক্রেমলিনবিরোধী শক্তির অংশগ্রহণ সীমিত ছিল—ফলে ফলাফলকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে রাশিয়ার বাইরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

/এএসএফ