• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম


বিদ্যুতের দাম ১৭-২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ মে ২০২৬ ১২:২৫ এএম

দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ার প্রেক্ষাপটে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এই প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৫ মে) নিশ্চিত করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।

বিইআরসি সূত্রে জানা যায়, পিডিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব জমা পড়লেও বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব এখনো জমা হয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও সময় লাগবে। প্রস্তাবগুলো কারিগরি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আসন্ন ঈদের ছুটির কারণে আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ইউনিটের দাম দাঁড়ায় ৭.০৪ টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী যদি ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়, তাহলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পিডিবির প্রস্তাবে মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।

এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতির আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান দামে বিদ্যুৎ বিক্রি অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি, তেল ও কয়লা উচ্চমূল্যে আমদানি করায় এই চাপ আরও বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি কমানোর লক্ষ্যে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে। সরকার মনে করছে, এই ভর্তুকির চাপ কমাতে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন, না হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়েও প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পিডিবির প্রস্তাবে ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক হিসেবে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে আবাসিক খাতে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জন্য নতুন ট্যারিফ নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মতে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ মূল্য সমন্বয় করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ভর্তুকির চাপ কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে গণশুনানি ও বিইআরসির চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের ওপর।

/এসএন