• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম


মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের ১,৪৭৬ রোহিঙ্গা নাগরিককে ফেরত পাঠানো শুরু

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:৩৮ পিএম

মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর প্রথম ধাপে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রায় ১ হাজার ৫০০ নাগরিককে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মালয়েশিয়া সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আটককেন্দ্রে থাকা প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে ধাপে ধাপে ‘স্বেচ্ছায়’ প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির বরাতে দ্য সান জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ২৯ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহারের কথা জানানো হয়।

প্রত্যাবাসন করা ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী রয়েছেন। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই রোহিঙ্গা। ফলে চলমান প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এর আগে জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের নাগরিকদের শনাক্তকরণ, নথিভুক্তকরণ ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এই যাচাই কার্যক্রমে অংশ নেয়।

মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়া নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটি। মিয়ানমার সরকারও সমুদ্রপথে প্রায় ৫ হাজার নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল বলে বারনামা জানিয়েছে।

তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো ভূমিকা নেই। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশটিকে বর্তমানে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

ইউএনএইচসিআরের মতে, যেকোনো প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায়, যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে হতে হবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোও বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দেশে ফেরার পর তাদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে ১৬০টিরও বেশি নাগরিক সংগঠন মালয়েশিয়াকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এর আগে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছিলেন। আনোয়ার বলেছেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের ধাপে ধাপে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বারনামা।

/এএসএফ