শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি থাকবে। এরপর ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল। তবে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ওই দিনও ছুটি ঘোষণা করেছেন।
এর পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শাখা বা বিশেষ সেবা চালু রাখা হতে পারে। পাশাপাশি এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকবে।
তবে জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় নিয়োজিতদের কর্মস্থলে থাকতে হবে। গণমাধ্যমসহ প্রয়োজনীয় কিছু প্রতিষ্ঠানেও কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকায় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের এ ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের সুযোগ আরও বাড়ছে।
এদিকে এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের জন্য অনুদানের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ বিবেচনায় এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় এক কোটি টাকা বেশি অনুদান দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় এই খাতে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানেও চাহিদার চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রতিবছর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অনুদান দেওয়া হয়। এবার সেই বরাদ্দের পরিমাণ এক কোটি টাকা বাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। এ উপলক্ষে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্যও চাহিদার চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
/এসএন