• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১০ পিএম


চাপে নতুন বাজেট: ৯ লাখ কোটি টাকার লক্ষ্য

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ২:২৪ পিএম

টালমাটাল বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও দেশের অর্থনীতির কঠিন বাস্তবতায় নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রায় দুই দশক পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে এটি, যার সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা—যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

এর আগে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রয়াত এম সাইফুর রহমান মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিলেন। সেই সময় দেশের মাথাপিছু আয় ছিল প্রায় ৫০০ ডলার, যা এখন বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৮২০ ডলারে পৌঁছেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ

ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো

ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা কাটানো

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল করা

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—যেমন ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত উত্তেজনা—বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে দেশের হিসাব-নিকাশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বাজেটের দিকনির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাজেটকে “ইতিহাসের সেরা” করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে অগ্রাধিকার পাবে—

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান

খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

তিনি বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহিঃখাত থেকে অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

অর্থনীতির চাপ ও বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল–এর ঋণের কিস্তি আটকে যাওয়া, রপ্তানি আয়ে ধীরগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ—সব মিলিয়ে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে বাজেট প্রণয়নে সরকারকে রক্ষণাত্মক নাকি সম্প্রসারণমুখী নীতি নেবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—সংকটের মধ্যেও জনগণকে স্বস্তি দেওয়া এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং একটি গ্রহণযোগ্য বাজেট দেওয়া—এই দুই লক্ষ্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে কী

আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে, এই বাজেট শুধু একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়—বরং এটি হবে সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষার মঞ্চ।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন