• ঢাকা
  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম


ডিমের দামে আগুন, ভোগান্তিতে ক্রেতা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৮ পিএম

তীব্র দাবদাহে অস্বস্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। এর সঙ্গে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান প্রোটিনের উৎস ডিমের দাম ডজনপ্রতি ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রাজধানীর ডিমের আড়তদাররা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক। তীব্র গরমে ডিম নষ্ট হওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং সরবরাহ সংকট—এসব কারণে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি ছোট খামার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটও একটি কারণ।

উৎপাদকরা জানান, অতিরিক্ত গরমে মুরগি কম খাবার খায় এবং ডিমও কম দেয়। ফলে গত এক মাসে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন হয়নি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খাদ্য আমদানির খরচ বেড়েছে। চলতি বছরে বার্ড ফ্লু ভাইরাসের কারণে অনেক মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদনে আরও প্রভাব পড়েছে।

রাজধানীর মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতিটি ফার্মের ডিম ১২-১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ২০-৩০ টাকা বেশি। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ২২০-২৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম প্রতি হালি ৬৫-৭০ টাকা, ডজন ২০০-২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী রাশেদ মাহমুদ বলেন, ডিম ছিল সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে সস্তা প্রোটিনের উৎস। কিন্তু এখন সেটিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে এমন মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে।

মিরপুর-১১ বাজারের বিক্রেতা সোহেল মিয়া জানান, গত সপ্তাহেও তিনি ১২০ টাকায় ডজন বিক্রি করেছেন। এখন পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। গরমে ডিম নষ্ট হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ডিমের দাম মূলত উৎপাদন ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। অতিরিক্ত গরমে মুরগি কম ডিম দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে মারা যায়। পাশাপাশি ডিম নষ্ট হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।