• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ এএম


দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ১৩২ দেশে বাংলাদেশি ওষুধের দাপট

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৭ এএম

একসময় দেশের ওষুধের চাহিদা পূরণে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো বাংলাদেশকে। সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে দেশের মোট ওষুধের চাহিদার ৯৮ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ওষুধ দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাড়ছে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের উপস্থিতি।গত এক দশকে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ১৬৭ শতাংশ। ৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ ওষুধের বাজারের আকার প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার।স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বর্তমানে বিশ্বের ১৩২টি দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এক হাজার ৪০০ জেনেরিক ওষুধ এবং ৪৫ হাজার ব্র্যান্ড রয়েছে। ১৯৯৩ সালে জেনেরিক ওষুধের সংখ্যা ছিল ৭০০ এবং ব্র্যান্ডের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারেরও কম।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২১৩ মিলিয়ন ডলার। বৈশ্বিক বাণিজ্যে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই প্রবৃদ্ধিকে দেশের ওষুধশিল্পের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।বাংলাদেশি ওষুধের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য শ্রীলঙ্কা। গত অর্থবছরে দেশটিতে ৩০ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি হয়েছে। এরপর মিয়ানমারে ৩০ মিলিয়ন, ফিলিপাইনে ১৯ মিলিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ মিলিয়ন, কম্বোডিয়ায় ১২ মিলিয়ন, আফগানিস্তানে ১২ মিলিয়ন, কেনিয়ায় ১১ মিলিয়ন, পাকিস্তানে ১০ মিলিয়ন, চিলিতে ৯ মিলিয়ন এবং যুক্তরাজ্যে চার মিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানি হয়েছে।এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক ও আইন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম বলেন, ‘একসময় অপ্রয়োজনীয় ওষুধ বাতিল করে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত হয়েছিল।’তবে তিনি জানান, ১৯৯৩ সালে মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে রেখে বাকি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব কোম্পানিগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।

/বিএসএস