• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম


পানি নামছে না, পচে যাচ্ছে হাজারো কৃষকের ধান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ মে ২০২৬ ১১:৩৯ পিএম

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় খাল ভরাট এবং অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানখেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় অনেক ক্ষেতের ধানে পচন ধরেছে। অন্যদিকে কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত ও রোদের অভাবে কেটে রাখা ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

বুধবার (৬ মে) বিকেলের ভারি বর্ষণে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর, নওয়াগাঁও এবং পৌর শহরের সতিষা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির নিচে থাকা আধাপাকা ধানে পচন ধরেছে। আবার অনেক কৃষক পাকা ধান কেটে ফেললেও তা রোদ না পাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে। অনেক ধানে চারা গজিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কেইলা বিলেও পানি নামছে না। ফলে ওই এলাকার হাজারো কৃষকের ধান পানির নিচে নষ্ট হচ্ছে।

ডৌহাখলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন চন্দ্র সরকার বলেন, অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যাওয়া এবং অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে বিলে পানি আটকে আছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য থাকা কালভার্ট ও ব্রিজও ভরাট হয়ে গেছে।

ভাংনামারী ইউনিয়নের নাপ্তেরআলগীর কৃষক মজিবুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ এখন প্রায় শুকিয়ে গেছে, পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়। কিন্তু নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। ফলে অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের পাগলা বিলেও ধান পানির নিচে পচে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল গনি, মজিবুর রহমান ও সুমন মিয়া বলেন, তাদের জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সোনালি ধান এখন পানির নিচে দুলছে, কিন্তু তা ঘরে তোলার কোনো উপায় নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি বুধবার যুগান্তরকে জানান, ঝড়ো আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টিতে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ১০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বোরো ধানের আক্রান্ত জমির পরিমাণ ৫৫০ হেক্টর। সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে ১৮০ হেক্টর জমির ফসল এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমির বোরো ধান।

তিনি আরও জানান, এতে ৩ হাজার ৮৫০ জন কৃষকের প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে ৫০ হেক্টর জমির শাকসবজিও আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির শাকসবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং ২০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এতে ১ হাজার ২৫০ জন কৃষক ও কৃষাণীর প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মৌসুমি শাকসবজি বিনষ্ট হয়েছে। উপজেলাটিতে মোট ১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ধান এবং ৬৪৬ মেট্রিক টন শাকসবজি নষ্ট হয়েছে।

/এসএন