• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পিএম


বিশ্বনাথে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩:১৮ পিএম

সিলেটের বিশ্বনাথে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৯টা থেকে বিশ্বনাথ পৌর শহরে পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে। তবে পৌর শহরে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ বিন কাসেমের স্বাক্ষর করা এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি জানানো হয়।

উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্বনাথ পৌরসভার কলেজ রোডের ডাকবাংলো এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে লাঠি বা অস্ত্র বহন এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির গণজমায়েতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বুধবার রাত থেকেই পৌর শহরে মাইকিং করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে লামাকাজী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা কবির হোসেন ধলা মিয়ার পক্ষ এবং ইসবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজী সফির মিয়ার (৬৫) পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষই বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিশ্বনাথ পৌর শহরের একই স্থানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

চেয়ারম্যান ধলা মিয়ার পক্ষ থেকে উপজেলা ও পৌর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ব্যানারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে হাজী সফির মিয়ার সমর্থনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই পক্ষের মুখোমুখি এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই এলাকায় একই সময়ে দুই পক্ষের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডাকবাংলো ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া লাঠিসোঁটা ও বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির যেকোনো ধরনের গণজমায়েতের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের জারি করা আদেশ অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে ১৪৪ ধারা জারির পর বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্বনাথে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারার আদেশ কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সকাল থেকেই মাঠে থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতেই উপজেলা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান ওসি।

/এসএন