• ঢাকা
  • রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ এএম


ভোলায় মাদরাসাশিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৩৩ পিএম

ভোলার লালমোহনে একটি ভাড়া বাসা থেকে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (৩৮) নামে এক মাদরাসাশিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে লালমোহন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি তিনতলা ভবনের কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আবদুল্লাহ আল মাহমুদ চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এবং পূর্ব ওমরাবাজ আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনের ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তজুমদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী নাহিদা পারভীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৩ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মাহমুদ। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে লালমোহনের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে মাহমুদকে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। তাঁদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাবা জয়নাল আবেদিন। তিনি বলেন, সকালে তাঁর পুত্রবধূ নাহিদা মুঠোফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর জানান। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

জয়নাল আবেদিনের অভিযোগ, ঘটনার পর শুরুতে নাহিদাকে সেখানে পাওয়া যায়নি এবং তিনি গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, ছেলে আত্মহত্যা করতে পারেন না; তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পরিবারের এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

নিহতের বড় ভাই ও দক্ষিণ আইচা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মুহিবুল্লাহও তাঁর ভাইকে হত্যার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁরা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

এদিকে, ঘটনার পর ওই ভাড়া বাসায় বেশ কয়েকজনকে দেখা গেলেও শুরুতে নাহিদা পারভীনের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পরে তিনি প্রকাশ্যে এসে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেন।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, সকাল ৬টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মৃত্যুর আগের রাতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন মাহমুদ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাকে হারানোর সবচেয়ে সহজ উপায়-আমাকে অসম্মান করা। অন্যায় সহ্য করতে পারি, অবহেলাতেও ফিরে আসতে পারি। ভালোবাসার জন্য অনেক কিছু মেনে নিতে পারি। কিন্তু আত্মসম্মানে আঘাত করলে আমি নিঃশব্দে শেষ হয়ে যাব। যেভাবে ইতিহাসে হারিয়ে যায়। যেভাবে মায়ের কোল থেকে হারিয়ে যায় ছোট্ট শিশু। আল্লাহ সহায়, আল্লাহ উত্তম বিচারক।”

তাঁর মৃত্যুর আগে দেওয়া এই পোস্ট ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টটির সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

/এএসএফ