• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ এএম


“আমার কাছে কারও বেইল নাই। কাজ করতে হলে ঘুষ দিতেই হবে। এক টাকাও কম দিলে কাজ হবে না।”

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ জুলাই ২০২৬ ৭:২৩ এএম

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুহু মিয়ার ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ দপ্তরে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা গুনে পকেটে রাখছেন তিনি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একজন সেবাগ্রহীতা নুহু মিয়ার অফিস কক্ষে এসে তার হাতে টাকা তুলে দেন। এরপর তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন।

ভুক্তভোগী এক সেবাগ্রহীতা জানান, উপজেলার এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের পেনশনের ফাইল অনুমোদনের জন্য নুহু মিয়া ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে আট হাজার টাকা দিতে চাইলে প্রথমে রাজি হননি। একাধিকবার অনুরোধের পর তিনি টাকা নিয়ে ফাইলে অনুমোদন দেন।

অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি না হলেও জানান, “তিনি সবার কাছ থেকেই ঘুষ নেন। কিছু বললে পরে উল্টো হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ নেওয়ার পরই তিনি সংশ্লিষ্ট ফাইলে স্বাক্ষর করেন। এ সময় এক সেবাগ্রহীতাকে বলতে শোনা যায়, “আমার কাছে কারও বেইল নাই। কাজ করতে হলে ঘুষ দিতেই হবে। এক টাকাও কম দিলে কাজ হবে না।”

উপজেলার বিভিন্ন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, পেনশনের ফাইল, টিআর, কাবিখা, সরকারি চাকরিজীবীদের ল্যাম্পগ্রান্ট, এলপিআরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল নানা অজুহাতে আটকে রেখে ঘুষ দাবি করেন নুহু মিয়া। তার চাহিদামতো টাকা দিলে তবেই ফাইল অনুমোদন করেন।

টেপামধুপুর এলাকার আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্কুলশিক্ষক স্বামীর পেনশনের ফাইলও আটকে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই কর্মকর্তা ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল দেখেন না। তিন দিন ধরে ঘুরছি। ১০ হাজার টাকা চেয়েছেন। পাঁচ হাজার টাকা দিলে গুনে দেখে ফেরত দিয়ে বলেছেন, পুরো ১০ হাজার টাকাই লাগবে। আমার সামনেই অন্যদের কাছ থেকেও ঘুষ নিয়ে ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুহু মিয়া বলেন, “ভিডিও তো ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। যারা ভিডিও করেছে, তারা ভালো করেনি। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দেব। কর্তৃপক্ষ যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।”

ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী রোকনুজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্প ও পেনশনের ফাইল আটকে রেখে ঘুষ আদায় এখন অনেক জায়গায় প্রকাশ্য বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এমন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।

/এএসএফ