• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ এএম


ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বাবাকে হত্যার পর মেয়েকে ফোন করে জানাল খুনি!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ জুলাই ২০২৬ ১০:২১ পিএম

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মোবাইল ফোন থেকে তার মেয়েকে কল করে এক ব্যক্তি হত্যার দায় স্বীকারের মতো বক্তব্য দিয়ে ফোন বন্ধ করে দেন বলে পরিবারের দাবি।

রোববার (৫ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বয়রা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চন্দ্রপাড়া সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (৬ জুলাই) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের প্রক্রিয়া চলছিল।

নিহত আব্দুল বারেক আকন্দ গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের দুর্বারচর গ্রামের মৃত আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম আকাশ বিজিবির কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বয়রা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মজনু মুন্সি। পথে চন্দ্রপাড়া সড়কে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকেন।

চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর নিহতের মোবাইল ফোন থেকে তার মেয়ে বৃষ্টির নম্বরে কল করে একজন বলেন, “তর বাবারে মারতাম চাইছিলাম না, হেরা কয়েকটা ফার (ঘা) বেশি দিছে, কিন্তু মইর্যা গেছে।” এরপরই ফোনটি কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নিহতের ছেলে মাজহারুল ইসলাম আকাশ জানান, তার বাবা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। তিনি তাদের চিনে ফেলায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে পরিবারের ধারণা। তিনি আরও দাবি করেন, মৃত্যুর আগে তার বাবা পশ্চিমপাড়ার তিন কিশোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তবে কারও নাম বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


/এএসএফ