• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ এএম


এক হিন্দু পরিবারকে আগলে রেখেছে ৩০০ মুসলিম পরিবার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৭:৪১ পিএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় ৩০০ মুসলিম পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে একটি হিন্দু পরিবার। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও তাদের মধ্যে নেই কোনো বিভেদ, দূরত্ব কিংবা বিরোধ। বরং পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বছরের পর বছর একসঙ্গে জীবন কাটাচ্ছেন তারা।উপজেলার নরসিংহপাড়া গ্রামে প্রায় ৩০০ মুসলিম পরিবারের পাশাপাশি বসবাস করছে হিন্দু পরিবারটি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের এই সহাবস্থানে কখনো সাম্প্রদায়িক বিরোধ কিংবা ধর্মীয় বিভেদের প্রভাব পড়েনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা সামাজিক নানা পরিবর্তনের মধ্যেও প্রতিবেশীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে।গ্রামটিতে রয়েছে হাফিজিয়া মাদ্রাসা, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ, মসজিদ ও মন্দির। একই এলাকায় এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি থাকলেও মানুষের মধ্যে বিভেদের কোনো চিত্র দেখা যায় না। মুসলিম ও হিন্দু পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করছে।স্থানীয় বাসিন্দা হাফেজ আলমাস আলী বলেন, এই গ্রামে হিন্দু-মুসলিম সবাই দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করছেন। এখানে স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও মন্দির রয়েছে। প্রায় ৩০০ মুসলিম পরিবারের সঙ্গে একটি হিন্দু পরিবারও মিলেমিশে রয়েছে। সবার মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় আছে।গ্রামের হিন্দু পরিবারের সদস্যরাও প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছেন তারা। কখনো ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ধরনের অন্যায় কিংবা বৈষম্যের শিকার হতে হয়নি। বরং প্রয়োজনের সময় সবাই একে অপরের পাশে দাঁড়ান।পরিবারের সদস্য বাণী চক্রবর্তী বলেন, এই গ্রামে তার বাপ-চাচা ও দাদুরা বসবাস করে গেছেন। তারা হিন্দু-মুসলমান বন্ধুদের মতো একসঙ্গে চলাফেরা করেন। তাদের জমিজমা ও মন্দির রয়েছে। সেখানে নিয়মিত পূজা হয়। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।পরিবারের প্রবীণ সদস্য কালিপদ চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই। কেউ তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন না, তারাও কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন না। তার জন্ম এই গ্রামেই। তার বাবা-ঠাকুরদারাও এখানে বসবাস করেছেন। প্রায় দেড়শ বছর ধরে তাদের পরিবারের বসবাস এই গ্রামে। হিন্দু-মুসলিম সবাই একসঙ্গেই চলাফেরা করেন।শুকুলহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুষার চক্রবর্তীর জন্মও এই গ্রামে। নিজের বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, নরসিংহপাড়া গ্রামেই তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে বড় হতে দেখেছেন। ধর্ম ও জাতিগত পরিচয় আলাদা হলেও পারস্পরিক সম্পর্ক খুব ভালো। তারা সবাই ভালো আছেন।গ্রামের দীর্ঘদিনের এই সম্প্রীতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। উল্লাপাড়া উপজেলার ৪ নম্বর বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও নরসিংহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি এই গ্রামেরই মানুষ। এখানে প্রায় ৩০০ মুসলিম পরিবার রয়েছে। পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই একটি হিন্দু পরিবার তাদের সঙ্গে বসবাস করছে। তাদের সঙ্গে চলাফেরা কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা যে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বাধা হতে পারে না, নরসিংহপাড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের সহাবস্থান তারই উদাহরণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে গ্রামটির মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখেছেন।

সূত্র: বাংলা টিভি

/বিএসএস