• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৬ এএম


আদালতের নির্দেশে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পেল ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশু নাঈম!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ জুলাই ২০২৬ ৯:৫২ পিএম

সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে অবশেষে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পেয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ। গত বছরের ৮ মে থেকে শুরু করে চারটি পে অর্ডারের (ব্যাংকের গ্যারান্টিযুক্ত পরিশোধনামা) মাধ্যমে ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব হোসেন এই অর্থ পরিশোধ করেন।

সোমবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে এসব পে অর্ডার উপস্থাপন করেন শিশুটির পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদানকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক। পরে আদালত ইয়াকুব হোসেনের আদেশ প্রতিপালনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে নাঈমকে প্রায় ছয় বছর আইনি লড়াই করতে হয়েছে। আপিল বিভাগের রায় হওয়ার পরও ওয়ার্কশপের মালিক আদালতের নির্দেশ না মেনে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে আদালত অবমাননার আবেদন করা হলে তিনি ধাপে ধাপে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করেন।

‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাঈমের দুর্ঘটনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়ার্কশপে কাজে যোগ দেওয়ার সময় নাঈমের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। সে তখন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় তার বাবা আনোয়ার হোসেন কর্মহীন হয়ে পড়লে সংসারের অভাব মেটাতে নাঈমকে ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজে পাঠানো হয়। সেখানে কাজ করার সময় একদিন তার ডান হাত মেশিনে ঢুকে গুরুতর জখম হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে তার হাত কেটে ফেলতে হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর ২০২০ সালে নাঈমের বাবা আনোয়ার হোসেন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

পরে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব হোসেনকে এক বছরের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি দুটি এফডিআরের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নাঈমের এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষাব্যয় বাবদ প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলেও তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।

তবে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করে ইয়াকুব হোসেন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন নাঈমের বাবা। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে ইয়াকুব হোসেনকে তলব করেন। এরপর ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে তিনি ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চারটি পে অর্ডারের মাধ্যমে অবশেষে ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।


/এএসএফ