২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর জন্য ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্য মোট ৮ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত দেশের ৬ হাজার ৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ হাজার ৫২০ জন এই সুবিধার আওতায় এসেছেন।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে বলে জানা গেছে।
এর পাশাপাশি ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
/এসএন