• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ পিএম


যুদ্ধ শেষ, ইরানের বিরুদ্ধে আর ধারাবাহিক হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ জুন ২০২৬ ৩:২০ পিএম

ইরানের অভ্যন্তরে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত সামরিক অভিযান বন্ধ করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া কয়েক মাসব্যাপী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন এখন আর ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে দেশটির ভেতরে ধারাবাহিক ও অব্যাহত হামলা পরিচালনা করছে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প অবকাঠামোর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা এবং ড্রোনের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই রুবিওর এই বক্তব্য সামনে এলো।

এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি বড় ড্রোন হামলার ঘটনায়। ওই হামলায় একটি যাত্রীবাহী টার্মিনাল গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং আরও ডজনখানেক মানুষ আহত হন। ঘটনার পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চতুর্থ মাসে প্রবেশ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। ইরান এখনো বিশ্ব তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। তিনি পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টাকে সংকট সমাধানের ‘চূড়ান্ত অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রুবিও আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আলোচনা এখনো সক্রিয় রয়েছে। ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির মতো কোনো দুর্বল সমঝোতা আবার হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হলে তা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে।

যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হলে সেটি অবশ্যই আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে। অন্যথায় কোনো চুক্তিই হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সম্ভাব্য নতুন চুক্তি নিশ্চিতভাবেই জেসিপিওএ-এর তুলনায় উন্নত হবে, যে চুক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।

/এসএন