• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম


পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিপজ্জনক গ্রহাণু, ধ্বংসের উপায় জানা গেল

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩৩ পিএম

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিশাল আকৃতির গ্রহাণুর হুমকি মোকাবিলায় নতুন একটি কার্যকর পদ্ধতির দাবি করেছেন গবেষকরা। চীনের ক্যালিফোর্নিয়া অব লঞ্চ ভেহিক্যাল টেকনোলজির বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কোনো বড় গ্রহাণু যদি পৃথিবীর দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে এবং সতর্ক হওয়ার সময় খুব কম থাকে, তাহলে গ্রহাণুর অভ্যন্তরে পারমাণবিক ডিভাইস স্থাপন করে বিস্ফোরণ ঘটানো সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে।‘স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন, অতীতে বৃহৎ গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবীতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় এবং বহু প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটেছিল। বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে নিয়মিতই শত শত মিটার প্রশস্ত গ্রহাণু অতিক্রম করছে। এছাড়া পৃথিবীর নিকটবর্তী এমন অনেক বিশাল গ্রহাণু এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, যেগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আগাম সতর্কতা মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ আগে পাওয়া যেতে পারে।গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নাসার ২০২১-২২ সালের ডার্ট (DART) মিশনের মতো গতিপথ পরিবর্তনের কৌশল স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় গ্রহাণুর ক্ষেত্রে সবসময় পর্যাপ্ত কার্যকর নাও হতে পারে।এ কারণে গবেষকরা সিমুলেশনের মাধ্যমে এমন একটি পদ্ধতি পরীক্ষা করেছেন, যেখানে একটি মহাকাশযান দিয়ে প্রথমে গ্রহাণুর গভীরে গর্ত তৈরি করা হয়। এরপর সেই গর্তে পারমাণবিক ডিভাইস স্থাপন করে বিস্ফোরণ ঘটানোর সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়।গবেষণায় বিভিন্ন মাত্রার পারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং গর্তের গভীরতার ভিত্তিতে গ্রহাণুর ক্ষয়ক্ষতি ও গতিপথের পরিবর্তন মূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, প্রায় ২০০টি হিরোশিমা আকারের পারমাণবিক বোমার সমপরিমাণ শক্তির বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলে ১০০ মিটার প্রশস্ত একটি গ্রহাণুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব।এছাড়া গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে বোমা স্থাপন করলে অগভীর বিস্ফোরণের তুলনায় এর গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পায়। উদাহরণ হিসেবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এক কিলোমিটার আকারের একটি গ্রহাণুর ক্ষেত্রে ২০ মিটার গভীরে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে সেটি পৃথিবীকে এড়িয়ে সেকেন্ডে ৩০ সেন্টিমিটারেরও বেশি গতিতে দূরে সরে যেতে পারে।বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিশাল গ্রহাণু কিংবা খুব অল্প সতর্কতার পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য মহাজাগতিক হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পনা ও নকশা তৈরির ক্ষেত্রে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

/বিএসএস