রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার ও হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ও এর আশপাশের এলাকায়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের সামনে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে ও মহড়া দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার সংঘর্ষে ছাত্রদলের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নকে মাথায় হেলমেট ও হাতে পাইপ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় তিনি দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করছেন না কেন? আপনারা সামনে যান, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।”
এর আগে একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
/এসএন