• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ পিএম


দা/বানলের তাপে বিস্ফো/রণ, মাটির নিচে মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযু/দ্ধের অ/স্ত্রভাণ্ডার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ আগস্ট ২০২৬ ৯:২৪ পিএম

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দোর কাছে ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত লে পোর্জ গ্রামে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার প্রায় ৪০০টি গোলা ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, দাবানলের তীব্র তাপে এসব বিস্ফোরক সক্রিয় হয়ে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইন অপসারণ (ডিমাইনিং) অভিযান শেষ হওয়ার পর সোমবার (৩ আগস্ট) লে পোর্জ গ্রামের বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

দাবানলের শুরুতে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণেই এমনটি ঘটছে। তবে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের এক কমান্ডার জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের মূল কারণ হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফেলে রাখা গোলাবারুদের সম্ভাবনাই বেশি।

ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ইনফোকে লে পোর্জ গ্রামের মেয়র মার্শাল জানিনেত্তি জানান, দাবানলের দ্বিতীয় রাতে ১০০টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তার ভাষায়, ওই শব্দগুলো ছিল ‘যুদ্ধের সময়ের মতো’।

দাবানলের পর শুরু হওয়া মাইন অপসারণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন। তবে কিছু এলাকা এখনো সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য নিষিদ্ধ রয়েছে। আগুনে ওই অঞ্চলের ১৮০টিরও বেশি বাড়ি পুড়ে ধ্বংস হয়েছে।

মেয়র জানিনেত্তি জানান, তাদের পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মাটির নিচে গোলাবারুদের গুদাম ছিল, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে আগে কিছুই জানত না। দাবানলের তাপে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় গোলাগুলো চারদিকে ছিটকে পড়ে। এমনকি একটি গোলা একটি বাড়ির ভেতর দিয়েও চলে যায় বলে জানান তিনি।

সোমবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র আরও জানান, সমুদ্রসৈকত, একটি ক্যাম্পসাইট এবং লা জেনি গ্রামে প্রবেশে এখনো নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ঐতিহাসিক অস্ত্রগুলোর মধ্যে জার্মান ও ফরাসি বাহিনীর ব্যবহৃত গোলাবারুদ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মর্টার শেল এবং ট্যাংকবিধ্বংসী গোলাও পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রায় ১০ দিন ধরে তাণ্ডব চালানোর পর জিরন্দ অঞ্চলের ভয়াবহ দাবানল এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সোমবার লে পোর্জের বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের পুড়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের মালামাল খুঁজতে দেখা গেছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু দাবানল মোকাবিলায় নিয়োজিত দমকলকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘নজিরবিহীন এই সংকটের মুখে ফ্রান্স দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’ তিনি জানান, জিরন্দ অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া মানুষ ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরছেন।

গত দুই সপ্তাহে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। দুই দেশ মিলিয়ে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সবচেয়ে বড় বন দাবানলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

/এসএন