• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম


ইরান যুদ্ধের পাঁচ মাসে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩৭ পিএম

ইরানের সঙ্গে টানা পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের বড় অংশ ব্যবহার হয়ে গেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় দেশটির প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (ATACMS) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (PrSM)

দুটি সূত্রের দাবি, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুদই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ঠিক কতগুলো এটিএসিএমএস ও পিআরএসএম অবশিষ্ট রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপদ দূরত্ব থেকে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতার কারণে এসব ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে, পিআরএসএম এটিএসিএমএস-এর তুলনায় আরও আধুনিক এবং অধিক পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ধীরে ধীরে এটি পুরোনো এটিএসিএমএসের জায়গা নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য ১০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সংঘাত দেখা দিলে এসব অস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেন। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধটি স্বল্প সময়েই শেষ হবে।

কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

একটি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যুদ্ধ শুরুর আগে থাকা প্রায় সব স্থলভিত্তিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। পরে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সংরক্ষিত মজুদ থেকে নতুন করে সরবরাহ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প ও পেন্টাগনের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, এমনকি প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। তিনি আরও দাবি করেন, দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিহাসের সর্বোচ্চ হারে গোলাবারুদ উৎপাদন করছে এবং উৎপাদন সক্ষমতাও দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বাড়লেও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তা এখনো যথেষ্ট নাও হতে পারে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের। প্রেসিডেন্ট যখন এবং যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদও কমছে

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৬৫ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে।

এ ছাড়া থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের মজুদও যুদ্ধ শুরুর তুলনায় অন্তত ৩৮ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছে দুটি সূত্র।

আরেকটি সূত্রের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈশ্বিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করেছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

এদিকে টমাহক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেথিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি উৎপাদন চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে টমাহকসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়িয়ে দ্রুত কমে যাওয়া মজুদ পুনর্গঠনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এএসএফ