• ঢাকা
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০১ এএম


২৫ কোটি টাকা ‘খাওয়ার’ অভিযোগের জবাবে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ মে ২০২৬ ৫:১১ পিএম

কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন—জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৃথকভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মনে হচ্ছে তিনি এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। অথচ বাস্তবে আলোচিত অর্থ ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরকারি বরাদ্দকে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণের সঙ্গে তুলনা করা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং মানহানিকরও। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন করা মানে এই নয় যে সরকারপ্রধান সেই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করছেন। একইভাবে কোনো এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই অর্থ নিজের কাছে নিয়েছেন—এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়।

আসিফ মাহমুদ জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাজেটের একটি অংশ ‘বিশেষ বরাদ্দ’ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দেওয়া হয়। আবেদন ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা বা সচিবের অনুমোদনের মাধ্যমে এসব বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এসব অর্থ ব্যয় করা হয়। বরাদ্দ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় কোন খাতে অর্থ ব্যয় করা হবে।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, রাজস্ব খাত এবং বিশেষ বরাদ্দ খাতের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রাজস্ব খাত থেকে কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট এলাকার জন্য আলাদা বরাদ্দ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আলোচিত অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত জেলা পরিষদের সভায় নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে যে বিশেষ বরাদ্দের অর্থ সোলার লাইট স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আসবাবপত্র ক্রয়, মসজিদ সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ বা নিজের মতো করে ব্যয় করার কোনো সুযোগ ছিল না।

অন্যদিকে একই বিষয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা চান হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ নিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে তার ফোনালাপের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

ফোনালাপে হাসনাত আব্দুল্লাহ জানতে চান, তার বিরুদ্ধে ‘টাকা খাওয়ার’ অভিযোগ করা হয়েছে কি না। এর জবাবে মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, রাজস্ব খাতসহ সব খাত মিলিয়ে হাসনাতের এলাকায় ১০ কোটি টাকা গেছে। তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন। তার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আসিফ মাহমুদের এলাকায় ১৫ কোটি টাকা গেছে।

মো. মোস্তাক মিয়া আরও বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ টাকা খেয়েছেন—এমন কথা তিনি বলেননি। তিনি বলতে চেয়েছেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তাদের দুই উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য হয়তো গণমাধ্যমে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।

হাসনাত আব্দুল্লাহও দাবি করেন, আলোচিত অর্থ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়; বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো এলাকায় বরাদ্দ দেওয়া এবং ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করবেন। অন্যথায় প্রয়োজন হলে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায়ও যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ভিডিও বার্তার শেষাংশে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করার আগে সেটি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।

/এসএন