সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও তাঁর স্ত্রী শারমিন মুশতারীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি জানিয়েছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, তাঁর স্ত্রী শারমিন মুশতারী এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁদের বিদেশ গমন ঠেকাতে আদালতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন দাখিলের জন্য কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তদন্ত কর্মকর্তা আরাফাত ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশ গমন রহিত করার আবেদন করেন। পরে সেই আবেদন আদালতে উপস্থাপনের জন্য কমিশনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে এখনো আদালত তাঁদের বিদেশযাত্রার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। আদালতে আবেদন দাখিলের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
মোহাম্মদ আলী আরাফাত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যাননি। তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট আরাফাত, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করেছিল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ওই সময় তাঁদের ও তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে আরাফাতসহ কয়েকজনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
/এএসএফ