বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ‘অনাহারী’—এমন মন্তব্য করে তাদের জন্য রাজধানীতে ‘গণভিক্ষা’ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর ডাকে এই প্রতীকী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির ঘোষণা ও হাসনাতের বক্তব্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে একইভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কর্মসূচিটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার সামনে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার সঙ্গে ছিলেন দলটির সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি চলাকালে এনসিপির নেতারা বিভিন্ন মার্কেটের দোকানদার, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং সাধারণ পথচারীদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে অলিতে, গলিতে স্থানীয়ভাবে যুব সমাজের উদ্যোগে এভাবে ভিক্ষার বক্স রেখে দেবেন। যারা বিগত ১৭ বছরে অভুক্ত, চাঁদাবাজ, গুন্ডা, রাতের আঁধারে শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলে, তাদের জন্য এই ভিক্ষা।”
এ সময় এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতে ‘চান্দা ভাইকে চাঁদা নয়, ভিক্ষা দিন’ লেখা ভিক্ষার বাক্স দেখা যায়। তারা বিভিন্ন স্লোগানও দেন। এর মধ্যে ছিল, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, চাঁদাবাজি ছাইড়া দে’, ‘চাঁদাবাজদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘চাঁদাবাজদের আস্তানা, ভেড়ে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘হই হই রই রই, চাঁদাবাজরা গেলি কই’, ‘চাঁদাবাজদের কফিনে, পেরেক মারো একসাথে’ এবং ‘মা-বোনদের বলে যাই, চাঁদাবাজির ঠাঁই নাই’।
এর আগে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ বিকেলে ‘গণভিক্ষা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “১৭ বছর ধরে সরকারদলীয় অনাহারী নেতাকর্মীদের জন্য এবার গণভিক্ষা কর্মসূচি! ভিক্ষা দিন—আপনার ১ টাকাই হয়তো একজনকে চাঁদাবাজির পথ থেকে দূরে রাখবে।”
তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজির বিকল্প হিসেবে ‘পুনর্বাসন দানবাক্স’ চালু করা হবে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলামোটরে বিশেষ দানবাক্স উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।
হাসনাতের পোস্টে আরও লেখা ছিল, “দান করুন, চাঁদাবাজি বন্ধ করুন, সতেরো বছরের অভুক্ত চাঁদাবাজদের জাতীয় পুনর্বাসনে আপনিও অংশ নিন।”
/এসএন