রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামীকাল ২৪ মে’র মধ্যেই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হতে পারে।
শনিবার (২৩ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ডিএনএ টেস্ট শেষ হয়েছে। রিপোর্টটি আজ হাতে পাওয়া গেলে মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। আশা করা হচ্ছে, রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া যাবে।
এদিকে, এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা গত বুধবার (২০ মে) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট Aminul Islam Junaid ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে তাদের রুমে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণ করেন তিনি। এতে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এসময় বাইরে থেকে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। পরে রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দি অনুযায়ী, মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। এছাড়া দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মরদেহ বাথরুম থেকে এনে শয়নকক্ষের খাটের নিচে রাখা হয়। ছুরি দিয়ে শিশুটির যৌনাঙ্গও ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ঘটনার সময় একই রুমে উপস্থিত ছিলেন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।
পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না। মাদক সেবনের পর বিকৃত যৌন আচরণে জড়িয়ে পড়েন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য মেয়েকে খুঁজতে শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি।
ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে একটি বড় বালতির ভেতরে শিশুটির মাথা পাওয়া যায়।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২০ মে ভুক্তভোগী রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে দুই আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পৃথক দুটি আবেদন করেন। এর মধ্যে একটিতে সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করা হয় এবং অন্য আবেদনে স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আর্জি জানানো হয়।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রামিসা আক্তার (০৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাকে কৌশলে ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার পর মরদেহ বিকৃত করা হয়। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সোহেল রানা ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
/এসএন