• ঢাকা
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম


সমালোচনার মুখে ত্রাণের টিন ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ মে ২০২৬ ৫:৩৯ পিএম

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের ঢেউটিন ও অনুদানের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতাসহ চারটি সচ্ছল পরিবারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের নির্দেশে তারা ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দেন।

ত্রাণ গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন আদিতমারীর ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দধি প্রসাদ বর্মণ, একই ইউনিয়নের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে শামসুল হক, নৃপেন্দ্র নাথ রায়ের মেয়ে গোলাপী রানী এবং দেবেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে শংকর কুমার রায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দধি প্রসাদ বর্মণের একটি ছাদ পেটানো পাকা ভবন রয়েছে। এছাড়া শংকর কুমার রায়ের রয়েছে টিনশেড আধাপাকা বাড়ি।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে তারা লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের কাছে আবেদন করেছিলেন। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

গত রোববার প্রত্যেক পরিবারকে এক বান্ডিল ঢেউটিন এবং অনুদান হিসেবে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শংকর কুমার রায়, শামসুল হক, দধি প্রসাদ বর্মণ ও গোলাপী রানীকে অবস্থাপন্ন গৃহস্থ উল্লেখ করে পোস্ট দেওয়া হলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

পরে প্রশাসনের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে তারা ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা ফেরত দেন।

বিএনপি নেতা দধি প্রসাদ বর্মণ বলেন, যে পাকা বাড়ির কথা বলা হচ্ছে সেটি তার ছেলের। সম্প্রতি শিলাবৃষ্টিতে তার নিজের টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি সহায়তার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে ত্রাণ পেলেও সেটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

অন্য সুবিধাভোগী শংকর কুমার রায় বলেন, “সবসময় কি আর্থিক অবস্থা ভালো থাকে। যারা আমাকে টিন ও অনুদানের টাকা দিয়েছে, তাদের নির্দেশমতো আবার ফেরত দিয়েছি।”

এ বিষয়ে গোলাপী রানীর স্বামী গোবিন্দ রায় বলেন, “আবেদন করে বরাদ্দ পেয়েছিলাম। পরে বিভিন্ন সমালোচনার কারণে টিন ও টাকা ফেরত দিয়েছি। মানুষ শুধু ওপরের দিকটা দেখে, ভেতরের অবস্থা জানার চেষ্টা করেন না।”

আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, সুবিধাভোগীরা ভুল স্বীকার করে ত্রাণের টিন ও অনুদানের টাকা অফিসে জমা দিয়েছেন। তারা ভুল স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের একাধিক সূত্র থেকে যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী নির্বাচন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/এইচটি