• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম


এপ্রিলের অস্বাভাবিক বৃষ্টি, মে মাসে তাপপ্রবাহ-ঝড়-ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ মে ২০২৬ ১১:৫৪ পিএম

গত এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় পড়তে শুরু করেছে। বোরো ধান কাটার মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে মে মাসজুড়ে তাপপ্রবাহ, কালবৈশাখী ঝড় এবং সাগরে লঘুচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে এ সময়ে এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে এবং তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও পাঁচ থেকে আট দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে শিলাবৃষ্টিসহ হতে পারে। একই সময়ে দুই থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে এক বা দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়ে এর একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

নদ-নদীর পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোতে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি সময়বিশেষে বাড়তে পারে, যা হাওর এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, গত এপ্রিল মাসের আবহাওয়া ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। সাধারণত এ মাসে যেখানে গড় বৃষ্টিপাত থাকে ১১৯ মিলিমিটার, সেখানে এবার বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৯৬ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বৃষ্টির দিনও বেড়েছে—সাধারণত আট দিনের পরিবর্তে বৃষ্টি হয়েছে ১১ দিন।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিলেটে স্বাভাবিক ২৯৫ মিলিমিটারের বিপরীতে ৬০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা দ্বিগুণেরও বেশি। ঢাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগেও স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম ছিল।

এপ্রিলে সর্বোচ্চ এক দিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, যেখানে ২৮ এপ্রিল ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।

এই অতিবৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায়। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন হাওরে দ্রুত পানি বাড়ছে। বোরো ধান কাটার শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক আশঙ্কা করছেন, তারা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন না। কোথাও কোথাও আগাম পানি ঢুকে আংশিক ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হাওরের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে পাকা ধান কাটার আগেই জমি প্লাবিত হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিলেও শ্রমিক সংকট ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তায় কাজ ব্যাহত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, এ বছরের এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাতের ধরণ ছিল অস্বাভাবিক। সাধারণত এ সময়ে ভারতের উজান এলাকায় বেশি বৃষ্টি হয়ে থাকে, কিন্তু এবার উল্টোভাবে বাংলাদেশেই বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা মৌসুমি প্রবণতার ব্যতিক্রম।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মে মাসে পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বৃষ্টি বা নিম্নচাপের প্রভাব দেখা দিলে হাওর এলাকায় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত ফসল ঘরে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

/এসএন