প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য এক নারীর কাছে দেওয়ার অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর সাবেক এক ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম বাবু।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫২ বছর বয়সী সাবেক এই সেনা ক্যাপ্টেনকে তামিলনাড়ুর ভেলোর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই নারী তথ্যগুলো অন্য কারও কাছে পাঠিয়েছিলেন কি না, কিংবা কোনো বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের সন্দেহ, ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওই নারী প্রেমের সম্পর্কটিকে কাজে লাগিয়ে থাকতে পারেন। তবে কী ধরনের তথ্য তাঁর কাছে দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলো অন্য কারও কাছে পাঠানো হয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। ওই নারীর পরিচয় ও জাতীয়তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এনডিটিভিকে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না।’ তিনি জানান, অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা আগে ডিআরডিওতে কাজ করেছেন।
ওই নারী পাকিস্তানের নাগরিক কি না, জানতে চাইলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নিশ্চিত নই। আইপি-সংক্রান্ত তথ্য জানতে আমরা হোয়াটসঅ্যাপকে চিঠি দেব। এরপরই বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভেলোরের কাছাকাছি তিরুভান্নামালাই জেলার আরানি এলাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে তাঁকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাবু ১৯৯৪ সালে অবসর নেওয়ার আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্টিলারি রেজিমেন্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীতে তাঁর কর্মজীবন এবং পরবর্তী সময়ে ডিআরডিওর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তিনি ওই নারীর কাছে ঠিক কী ধরনের সংবেদনশীল তথ্য দিয়েছেন এবং সেসব তথ্যের পরিধি কতটা ছিল।
সামরিক গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ু পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের জন্য তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা বাবুর যোগাযোগের তথ্য ও ডিজিটাল রেকর্ড পরীক্ষা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ওই নারীর পরিচয়, তাঁর কাছে কী পরিমাণ তথ্য পাঠানো হয়েছিল এবং কোনো বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে।
/এএসএফ