• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম


‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’, লাইভের পর উত্তেজনা, থানায় নারী ব্যবসায়ী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ৮:০০ পিএম

ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে ক্ষোভ, ভালুকায় নারী ব্যবসায়ীকে হেফাজতে নিল পুলিশ

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এক নারী ব্যবসায়ী। তাঁর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ওই নারীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হেফাজতে নেওয়া ওই নারীর নাম সাথী আক্তার। তিনি ওই এলাকার একটি বিউটি পার্লারের মালিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড এবং ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও দুটিতে তাঁকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লাইভ

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া লাইভ ভিডিওতে সাথী আক্তার জানান, তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। তবে চলতি বছর একের পর এক চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

গত মাসে তাঁর একটি দোকান থেকে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তার চুরি হয়েছিল। রোববার এসে তিনি দেখতে পান, তাঁর দুটি শোরুমের বৈদ্যুতিক তার এবং একটি শোরুমের এসির তার কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আশপাশের আরও কয়েকটি দোকানের তারও চুরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের একপর্যায়ে বিএনপি সরকারকে ভোট দেওয়ার কথা উল্লেখ করে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সাথী।

পার্লারের সামনে জড়ো হন নেতা-কর্মীরা

সাথী আক্তারের লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।

পরে সাথীর পারলারের সামনে যান বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম খলিল।

দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রথম আলোকে ইব্রাহিম খলিল বলেন, বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কী বলছে পুলিশ

ঘটনাস্থলে দেড় থেকে দুই শ লোক জড়ো হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই নারীকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করেননি। তাঁর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা তখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ওসি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকে থাকা কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে, সে বিষয়ে তখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, ওই নারী এলাকায় ব্যবসা করেন। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে কিছু কথা বলেছেন। অনেক সময় রাগের মাথায় মানুষ নানা কথা বলে ফেলেন। সাথীর বক্তব্যও সে রকম কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, ভিডিওতে ওই নারী বিএনপিকে ভোট দিয়ে আজ ভুক্তভোগী হওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে দলীয় অবমাননা বা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত

ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীকে ছেড়ে দিলে এলাকায় কী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার এ ঘটনায় প্রায় ১৫০ জন লোক জড়ো হয়েছিলেন। পরদিন সেই সংখ্যা বেড়ে ৩০০ হতে পারে এবং সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, তাঁকে ছেড়ে দিলে এলাকার পরিস্থিতিতে কী প্রতিক্রিয়া হয়, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। আবার বড় কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখালে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

/এএসএফ