• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম


জ্বালানি সংকট নিরসনে বড় পরিসরে আমদানিসহ বহুমুখী পদক্ষেপ সরকারের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১:৩৩ পিএম

বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় পরিসরে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়, নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্য দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, অ্যাঙ্গোলা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলএনজি আমদানি করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তত কয়েক মাসের চাহিদা নিশ্চিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অ্যাঙ্গোলা থেকে ২০টি এলএনজি কার্গো কেনা হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে ৯টি কার্গো কেনা হয়েছে, যার ৬টি ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। মে মাসে আরও ১১টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বলেন, দেশে গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

সরকার আমদানির পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অফিস সময় কমানো, ব্যাংকিং সময় সীমিত করা এবং বাজার ও শপিংমল নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা রাখার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সেচ মৌসুমে যাতে কোনো সংকট না হয়, সে জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল ও অকটেনবাহী ট্যাংকার ভিড়েছে। এছাড়া ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকেও ডিজেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি এসেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকেও গুরুত্ব বাড়িয়েছে সরকার। বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনো সংকট নেই। পরিকল্পিত আমদানি ও মজুত ব্যবস্থার ফলে আগামী কয়েক মাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

এদিকে অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে সারাদেশে ভিজিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর অনারারি অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ধীরে ধীরে সংকট কমে আসবে।

সরকারি তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।