সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পর শেয়ারবাজারে বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানাধীন এই দুই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এরপর গত দুই দিনে দুই কোম্পানির শেয়ারের দামই ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দাম ৮০ পয়সা বা ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লেনদেন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায় কোম্পানিটির শেয়ারের দাম আরও ২ টাকা বেড়ে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ফলে দুই দিনে বেক্সিমকোর প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ৩ টাকা বা ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
একই সময়ে শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারের দামও বেড়েছে। বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৯০ পয়সা বা সাড়ে ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার প্রথম দুই ঘণ্টায় এর দাম আরও ২ টাকা ১০ পয়সা বা ১০ শতাংশ বেড়েছে। এতে দুই দিনে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ৩ টাকা বা ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর কোম্পানি দুটির শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। ওই সময় কোম্পানিটির প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়।
একই সময়ে লেনদেনের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস। কোম্পানিটির প্রায় ৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেক্সিমকো গ্রুপের এই দুই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ থেকে সালমান এফ রহমান বাদ পড়ার খবরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কোম্পানি দুটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিনটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ থেকেই তিনি বাদ পড়লেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ পড়ার আগে গত বছরের জুলাইয়ে তাকে শেয়ারবাজারে ‘আজীবন অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছিল বিএসইসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো গ্রুপ যে প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সালমান এফ রহমান গ্রুপটির পর্ষদ থেকে পদত্যাগে সম্মত হন। তার কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। তবে পুনর্গঠিত পর্ষদেও সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই রয়েছেন।
/এসএন