ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় ১৯৪৮ সালের মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে, যা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিবাদই রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ডাকসুর সংগ্রহশালায় ওই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিবৃতিতে আরও জানায়, তারা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থকে গুরুত্ব না দিয়ে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
ছাত্রদলের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ‘ঘৃণ্য অপচেষ্টা’ থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এ ধরনের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিচ্ছে।
সংগঠনটির দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ এবং ‘পাকিস্তান প্রেম’ প্রকাশ পাচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।
ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৯৪৮ সালে তৎকালীন উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার জিন্নাহর ঔদ্ধত্যপূর্ণ উক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ যেভাবে গর্জে উঠেছিল, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
/এসএন