• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০১ এএম


আওয়ামী আমলে নেওয়া ঋণের বোঝা, বিএনপি সরকারের পাঁচ মাসে রেকর্ড অর্থ পরিশোধ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:২৮ পিএম

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই রেকর্ড গড়েছে বিএনপি সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ যাবৎকালে কোনো পাঁচ মাসের সময়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ অর্থ। গত বছরের একই সময়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার বা প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের মার্চ-জুলাই সময়ে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

ইআরডির তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিদেশি ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। এ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪১ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর থেকেই পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া বিদেশি ঋণের ক্রমবর্ধমান কিস্তি পরিশোধ সরকারের অন্যতম বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অর্থনৈতিক চাপ ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে নেওয়া বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণের অনেকগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে গেছে। ফলে এসব ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ বর্তমান সরকারের সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপকভাবে ঋণ নিয়েছে। তবে ঋণ নেওয়ার সময় প্রকল্পের ‘ভ্যালু ফর মানি’ এবং ঋণের সুদের হার যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতেও ক্যাপাসিটি চার্জসহ বিভিন্ন কারণে বড় ধরনের আর্থিক দায় ও ভর্তুকির বোঝা তৈরি হয়েছে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া এসব দায় এখন বর্তমান সরকারকে সামলাতে হচ্ছে।তিতুমীর বলেন, ‘আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। তারপরও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে।’আগের সরকার যত্রতত্র ঋণ নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বোঝা রেখে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি যেকোনো ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিনিয়োগ, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গতিশীলতা বাড়াতে ঋণের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঋণের বিপরীতে কী ধরনের রিটার্ন আসবে এবং কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩৭ কোটি ডলারে। পরের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ পরিশোধ করা হয় ৪০৯ কোটি ডলার।২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ আরও বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বিদেশি ঋণ পরিশোধের বর্তমান চাপ মূলত সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া নতুন ঋণের কারণে নয়।

বরং আগের দেড় দশকে নেওয়া বড় অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় এখন এসব ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে।এ পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার একদিকে আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের দায় নিয়মিত পরিশোধ করছে, অন্যদিকে নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, প্রত্যাশিত সুফল এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।সরকারের নীতিনির্ধারকদের আশা, নিয়মিত ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও ঋণদাতাদের কাছে বাংলাদেশের দায় পরিশোধের সক্ষমতা এবং আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

/বিএসএস