• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম


মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে লড়াই, নেপালি যুবককে সৌদির বিশেষ সম্মান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ আগস্ট ২০২৬ ৬:০৪ পিএম

নেপালে একটি মসজিদ রক্ষায় এক পায়ে দাঁড়িয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা এক প্রতিবন্ধী মুসলিম যুবককে বিশেষ সম্মান জানিয়েছে সৌদি আরব। তার সাহসিকতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি আরবের কয়েকজন দাতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট তাকে খুঁজে বের করেন। পরে তার জন্য ওমরাহ পালনের ব্যবস্থা করা হয়।ঘটনাটি চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নেপালের রওতাহাট জেলার একটি মসজিদে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোকের হামলা ঠেকাতে এক পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক মুসলিম যুবক। তার হাতে ছিল ক্রাচ ও লাঠি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মসজিদ রক্ষায় তার এই দৃঢ় অবস্থান বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সৌদি আরবের কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী ভিডিওটির পেছনের মানুষটিকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে তারা রামপুরের বাসিন্দা নেপালি শেখ রহেমুল্লাহর সন্ধান পান।রহেমুল্লাহর জন্য এরপর খুলে যায় এক অবিশ্বাস্য সুযোগের দরজা। জীবনে কখনো ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন—এমনটা তিনি ভাবেননি। অথচ মসজিদ রক্ষায় তার সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সৌদি দাতা ও আয়োজকদের পৃষ্ঠপোষকতায় তাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়।গত ৫ আগস্ট ৩২ বছর বয়সী রহেমুল্লাহ তার বাবা-মাকে নিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছান। সেখানে মক্কায় অবস্থানকালে সৌদি নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উপহার এবং আন্তরিক আতিথেয়তায় স্বাগত জানান।শুধু ওমরাহ পালনের ব্যবস্থাই নয়, রহেমুল্লাহর হারানো পায়ের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার দায়িত্বও নিয়েছে বাদার অ্যাসোসিয়েশন। ফলে সৌদি আরব সফরটি তার জন্য ধর্মীয় ইবাদত পালনের পাশাপাশি জীবনে নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দিয়েছে।সৌদি আরবে রহেমুল্লাহ ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ভারতের কেরালার তরুণ মুসলিম কনটেন্ট নির্মাতা মোহাম্মদ রাফি। সফরকালে তিনি তাদের সঙ্গে ছিলেন।আরব নিউজকে রাফি বলেন, কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের সহযোগিতায় রহেমুল্লাহ ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তার ভাষায়, প্রথমত আল্লাহর কৃপায় এবং এরপর কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের সহযোগিতায় রহেমুল্লাহ ওমরাহ পালন করতে পেরেছেন।রাফি জানান, মক্কা ও মদিনায় রহেমুল্লাহ ও তার পরিবার যে আতিথেয়তা পেয়েছেন, তাতে তারা অত্যন্ত খুশি। তার মতে, এই সফর রহেমুল্লাহ কখনো ভুলবেন না।তিনি আরও বলেন, ওমরাহ পালনের সময় রহেমুল্লাহর আনন্দ ছিল বর্ণনাতীত। তার পুরো ঘটনাটি ধৈর্য, দৃঢ়তা ও ঈমানের এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।গত ১৪ আগস্ট রহেমুল্লাহ ও তার পরিবার সৌদি আরব থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা হন। সঙ্গে নিয়ে যান মক্কা ও মদিনার স্মৃতি এবং সৌদি দাতা ও এই সফরের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।

সূত্র: আরব নিউজ

/বিএসএস