ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় দুই বছর আটক থাকার পর গাজায় ফিরে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় ছিলেন ফিলিস্তিনি বাবা আহমেদ আবদুল করিম আল সিকালি। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ফিরে সেই পুনর্মিলনের বদলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ছয়টি মৃত্যু সনদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিবরণ অনুযায়ী, তিনি আটক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তার ছয় সন্তান নিহত হয়।
আহমেদের ঘটনা নিয়ে বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও বিবরণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে ছয়টি মৃত্যু সনদ হাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় সংবাদমাধ্যম, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বা স্বাধীন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার সব তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রচারিত বিবরণে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়ে খান ইউনিসে ফেরেন আহমেদ। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর সন্তানদের সঙ্গে দেখা হবে এমন প্রত্যাশা নিয়েই তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু ফিরে জানতে পারেন, তিনি আটক থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে বিমান হামলা হয়েছিল।
ওই হামলায় তার ছয় সন্তান নিহত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে। একই হামলায় তার স্ত্রী আহত হলেও বেঁচে যান বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহত শিশুদের নাম, বয়স, হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ এবং আহমেদকে কখন ও কী অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত তথ্যের একটি অংশে আবার অসঙ্গতিও রয়েছে। কয়েকটি পোস্টে বলা হয়েছে, আহমেদের স্ত্রী ও তার এক মেয়ে ওই হামলা থেকে বেঁচে গেছেন। একই সঙ্গে এসব পোস্টেই তার ‘ছয় সন্তান’ নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে জীবিত মেয়েটি ছয় সন্তানের বাইরে আরেক সন্তান কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ কারণে নিহত সন্তানের সংখ্যা ও পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে আরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর খান ইউনিস বারবার ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় বহু পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে আটক করে ইসরায়েলে নেওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আহমেদ আবদুল করিম আল সিকালির ঘটনাটি সত্য হলে, দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর ঘরে ফিরে পরিবারের সদস্যদের হারানোর খবর পাওয়ার আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে এটি গাজার যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে। তবে তার পরিবারের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির অনিশ্চিত তথ্যগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ না করাই সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে নিরাপদ।
/এএসএফ