দীর্ঘ সময়ের দরপতনের পর জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। দুই দেশের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান চলতি বছরের মে মাসের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
চীনা আর্থিক তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘উইন্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) লেনদেনের শুরুতে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার দাঁড়ায় ১৫৫ দশমিক ২৩। এটি সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েনের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানান, ওয়াশিংটন ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ইয়েন কেনার পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষ্য জাপানি মুদ্রার অস্বাভাবিক দরপতন ঠেকানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রোববার প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ উদ্যোগকে ‘বন্ধুত্বের প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় জাপানের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেজারি সচিব বেসেন্টও জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও দুই দেশ যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, ১৯৯৮ সালের পর ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের এটিই প্রথম যৌথ বাজার হস্তক্ষেপ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পেছনে উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। চায়না সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনৈতিক বিশ্লেষক কিয়ান উই বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনকে শক্তিশালী করার উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ওপর সম্ভাব্য বিক্রির চাপ কমাতে।
সাধারণত ইয়েনের মান বাড়াতে জাপানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক সম্পদ, বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে ইয়েন কিনতে হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এবার যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বাজারে অংশ নেওয়ায় সেই চাপ অনেকটাই কমেছে।
হংকংভিত্তিক সিসিবি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লিফ ঝাও মনে করেন, ইয়েন আবার বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়লে ভবিষ্যতে একই ধরনের যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিয়মিত এভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে তা টেকসই নয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার ১৫৫ থেকে ১৬০-এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ইয়েন শক্তিশালী হওয়ায় বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা কম। তবে জাপানে রপ্তানিকারক কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদে বাজারে স্বস্তি আনলেও দীর্ঘমেয়াদে ইয়েনের গতিপথ নির্ভর করবে দুই দেশের মুদ্রানীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
/এএসএফ