• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৯ এএম


‘আত্মীয়দের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানকে পারিবারিক বলয়ে নিয়েছেন অধ্যক্ষ’

স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিত/র্কে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৬ পিএম

রাজধানীর সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ এবং আত্মীয়স্বজনকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের জেরে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অধ্যক্ষের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করছেন একাধিক শিক্ষক।

অভিযোগ অনুযায়ী, গভর্নিং বডি নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষক প্রতিনিধি পদে অধ্যক্ষের আপন চাচাতো ভাইকে একক প্রার্থী করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও আত্মীয়স্বজনকে বসিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাববলয় গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নামের তালিকা সংগ্রহ করে দৈনিক ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়া। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, কলেজ শাখার ইনচার্জ তুহিন অধ্যক্ষের আপন শ্যালক, স্কুলের দিবা শাখার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন তার মামাতো ভাই এবং ইংলিশ শাখার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ অধ্যক্ষের মামা-শ্বশুরের মেয়ের জামাই।

এ ছাড়া গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে একক প্রার্থী করা হয়েছে মো. ওমর ফারুক মোল্লাকে, যিনি অধ্যক্ষের আপন চাচাতো ভাই। আহসান হাবিব মোল্লাও তার চাচাতো ভাই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সজিব নামে একজন ভাতিজি জামাই এবং অফিস সহকারী জুয়েল অধ্যক্ষের ভাতিজা। কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, ভর্তি-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের মূল দায়িত্বে রয়েছেন জুয়েল এবং ভর্তি বাণিজ্যের বিভিন্ন কার্যক্রমও তার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এমনকি অধ্যক্ষের ছোট মেয়েও এক বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করে। শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ, গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ, মেধার ভিত্তিতে সুপারিশ এবং পরবর্তীতে নিয়োগপত্র ইস্যুর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, এতগুলো নিয়ম অনুসরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অধ্যক্ষের আত্মীয়স্বজনই বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, এ পদে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ তার আপন মামাতো ভাইকে সরাসরি নিয়োগ দিয়েছেন। এ জন্য নামসর্বস্ব একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিজেদের মতো করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর অধ্যক্ষ তার মামাতো ভাইকে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছেন। অথচ প্রতিষ্ঠানে আরও সিনিয়র ও যোগ্য শিক্ষক ছিলেন, যাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য, নিয়োগ প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, যা বড় ধরনের অনিয়ম।

শুধু আত্মীয়স্বজন নিয়োগই নয়, প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারীও রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগ রয়েছে। মাতুয়াইলের কোনাপাড়া ফার্মমোড়ে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিজেও একই এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগকারীদের দাবি, শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগেও অধ্যক্ষের সুপারিশ ও প্রভাব কাজ করেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

/এসএন