অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে ১২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন ফিলিস্তিন সেন্টার ফর প্রিজনারস অ্যাডভোকেসি (সামিদুন)।
সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের তথ্যমতে, পশ্চিম তীরের নাবলুস, তুলকারেম ও হেবরন এলাকায় সবচেয়ে বেশি আটকের ঘটনা ঘটেছে।
সামিদুনের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের জমিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
সংগঠনটির অভিযোগ, অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং আটকদের মাঠপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করেছে।
সামিদুন আরও দাবি করেছে, কয়েকটি অভিযানে ইসরায়েলি সেনাদের পাশাপাশি সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাও অংশ নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব অভিযান সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে।
সংগঠনটি ইসরায়েলি বাহিনীর এই অভিযানকে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক নীতির অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা ও চাপ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপও কামনা করেছে সামিদুন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
/এএসএফ